কনভার্সন ডিসঅর্ডার: মানসিক কষ্টের শারীরিক প্রকাশ

কনভার্সন ডিসঅর্ডার হলো এক ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গে ভোগেন কিন্তু এর কারণ সম্পূর্ণ মানসিক।
শারীরিক উপসর্গ দুই ধরনের দেখা যায়:
১) সংবেদনশীল লক্ষণ: চোখে দেখতে না পারা বা দেখতে অসুবিধা হওয়া, স্পর্শের অনুভূতি না পাওয়া।
২) শারীরিক লক্ষণ: সমস্ত শরীর বা নির্দিষ্ট অংশের পক্ষাঘাত; হাত, পা বা শরীর বাঁকানো; ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা বা হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়া; শরীর দুর্বল হওয়া; বোবা হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা; গিলতে গিয়ে যেন গলায় কিছু আটকে যাওয়া; খিঁচুনি; হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
লক্ষণগুলি দেখে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করছেন বা তিনি আধ্যাত্মিক কিছু বা কালো জাদু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
যদি ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে এক বা একাধিক উপসর্গ পরিলক্ষিত হয় এবং তা ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পেশাগত, সামাজিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে ও কাছের মানুষদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়, তাহলে বলা হয় যে ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, কনভার্সন ডিসঅর্ডার পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, এবং ১০ থেকে ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে এই রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি।
কনভার্সন ডিসঅর্ডারের কারণ: চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনও এর কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পায়নি।
চিকিৎসা: কনভার্সন ডিসঅর্ডারে সাইকোথেরাপি খুবই কার্যকর। তবে দ্রুত আরোগ্যের জন্য ওষুধ ও সাইকোথেরাপি একসঙ্গে নেওয়া ভালো।





