মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা

শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ, আর এই ছোট পরিবার ও যান্ত্রিকতার যুগে সমস্যা আরও বেড়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত, যার কারণে মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে অনীহা প্রকাশ করে।
সমাজে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা:
- মানসিক অসুস্থতা আসলে বাস্তব নয়।
- শিশুদের মানসিক রোগ হয় না।
- মানসিক সমস্যা কখনো ভালো হয় না।
- পাপের কারণে মানসিক রোগ হয়।
- মানসিক রোগীরা সবসময় আগ্রাসী আচরণ করে।
- জিনের আসরের কারণে মানসিক সমস্যা হয়।
উপরের সব ধারণাই ভুল। এসব ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের উচিত মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনে পেশাদারদের সাহায্য নেওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর বিশ্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ মানসিক সমস্যাজনিত কারণে মারা যান, এবং প্রতি ৪ জনে ১ জন জীবনের কোনো এক সময়ে মানসিক সমস্যায় ভোগেন। বাংলাদেশে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮–১৯ অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ১৪ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬.৮ শতাংশ মানসিক রোগে ভুগছে; প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৬.৭ শতাংশ বিষণ্নতায় ও ৪.৫ শতাংশ উদ্বেগজনিত রোগে আক্রান্ত।
কীভাবে বুঝবেন যে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন?
যেহেতু প্রতি ৪ জনে ১ জন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মানসিক অসুবিধার মধ্য দিয়ে যান, তাই আপনারও এই সেবা লাগতে পারে—এটি খুবই স্বাভাবিক। যদি লক্ষ্য করেন আপনার স্বাভাবিক কাজকর্ম, সামাজিক ও পেশাগত জীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং আপনি নিজে থেকে কোনোভাবেই তা সামলাতে পারছেন না, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া প্রয়োজন।





