রিসোর্স লাইব্রেরি
ব্লগসচেতনতা ও সমাজ· 3 min read

অভিবাসী কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্য

৬ বার দেখা হয়েছে২৪/৭/২০২৬

বাংলাদেশে অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান, আর তার পাশাপাশি বাড়ছে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জটিলতা। নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে যাওয়ার পর যেমন এক ধরনের অভিযোজনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তেমনি দেশে ফেরার পরও ব্যক্তিকে আবার সমাজ ও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। এই অভিযোজন প্রক্রিয়া সবার জন্য সমান নয়; নানা কারণে একজন বিদেশ-ফেরত অভিবাসী বিভিন্ন মানসিক অসুবিধার সম্মুখীন হন।

বিদেশ গমনের পর্বের মানসিক অবস্থা: বিদেশ যাওয়ার আগেই একজন ব্যক্তি বেশ কিছু কারণে উদ্বিগ্ন হতে পারেন, যেমন:

  • পরিবার ছাড়া একা নতুন পরিবেশ
  • ভাষাগত অসুবিধা
  • অর্থনৈতিক অসুবিধা
  • সামাজিক বাধা ও অন্যান্য

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫% বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী বিদেশ যাওয়ার আগেই এমন মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান, যা দেশে ফেরার পর মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ: অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, স্বল্প বেতন ও প্রতিকূল কর্মপরিবেশ একজন অভিবাসীর মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪২% বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী কর্মক্ষেত্রে চাপ অনুভব করেন, যা বিষণ্নতা ও উদ্বেগসহ নানা সমস্যার কারণ হয়।

একাকীত্ব: পরিবার, স্বজন ও পরিচিত মুখ থেকে দূরে থাকা একজন অভিবাসীর মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিদেশে থাকা ৪৮% বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী অসহায়তা, একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা অনুভব করেন।

মানসিক আঘাত/ট্রমা: কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায় এবং তীব্র মানসিক আঘাত দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা তৈরি করতে পারে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৬% বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী তীব্র মানসিক আঘাতের কথা জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক সংকট: নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফেরা, ঋণের বোঝা ও কাজের অভাব বিদেশ-ফেরত কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০% বিদেশ-ফেরত বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী আর্থিক দৈন্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

সামাজিক পুনঃসংহতি: দেশে ফিরে নিজের সমাজে অভিযোজনেও অভিবাসী কর্মী অসুবিধার সম্মুখীন হন। নানা কারণে সমাজ ও সম্প্রদায় বিদেশ-ফেরত অভিবাসীর প্রতি অসহযোগী মনোভাব দেখায়। জরিপে দেখা গেছে, ৪৮% ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ-ফেরত কর্মী নিজ সমাজে অবহেলা ও অবজ্ঞার শিকার হন, যা তাদের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো—বিদেশ-ফেরত কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সেবা প্রদান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।