রিসোর্স লাইব্রেরি
ব্লগনিজের যত্ন· 4 min read

সেলফ এস্টিম (প্রথম পর্ব)

৬ বার দেখা হয়েছে২৪/৭/২০২৬

সেলফ-এস্টিম কী?
সেলফ-এস্টিম কথাটির বাংলা শাব্দিক অর্থ হিসেবে পাওয়া যায়—"আত্মসম্মানবোধ", "আত্মমর্যাদা", "আত্মবিশ্বাস" বা এ ধরনের কিছু। তবে এককথায় এর অর্থ বলা কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলফ-এস্টিম হলো একজন মানুষের নিজের সম্পর্কে সার্বিক ধারণা বা বিচার-বিবেচনা। নিজের সম্পর্কে এই সার্বিক ধারণাটিই জীবনে চলার পথে আমাদের প্রতিটি কাজকে প্রভাবিত করে, যা হয়তো আমরা টেরও পাই না। অর্থাৎ, আমি নিজেকে কতটুকু মূল্য দিচ্ছি, কতটুকু পছন্দ করছি ও সম্মান দিচ্ছি—এই বিষয়গুলোর সমন্বয়ই সেলফ-এস্টিম। এটি নিজের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা ও অভিজ্ঞতার ফলে অবচেতন মনেই সেলফ-এস্টিম গঠিত ও বিকশিত হয়। নিম্ন সেলফ-এস্টিম যেমন ক্ষতিকর, তেমনি নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত অবাস্তব উচ্চ ধারণা রাখাও অস্বাভাবিকতার লক্ষণ।

সেলফ-এস্টিম ও সেলফ-কনফিডেন্স

এই দুটির মধ্যে হালকা পার্থক্য আছে, যা আমরা প্রায়ই এক করে ফেলি। সেলফ-কনফিডেন্স হলো নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে ধারণা, যা পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হয় (যেমন, আমি রান্নায় কনফিডেন্ট কিন্তু সবার সামনে কথা বলতে নই)। কিন্তু সেলফ-এস্টিম মোটামুটি একই থাকে (যদিও অনুশীলন বা সাইকোথেরাপির মাধ্যমে বাড়ানো যায়)। আমরা যখন নিজেকে ভালোবাসি, তখন নিজের সম্পর্কে ধারণা ইতিবাচক থাকে এবং সব পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসও মোটামুটি একই রকম থাকতে সাহায্য করে।

নিম্ন সেলফ-এস্টিম তৈরির কারণ

নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণে কেউ নিম্ন সেলফ-এস্টিম নিয়ে বড় হয়েছে, তা সরাসরি বলা যায় না; এর পেছনে নানা কারণ থাকে এবং একেকজনের ক্ষেত্রে ভিন্ন (যা কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপির মাধ্যমে খুঁজে বের করা যায়)। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলফ-এস্টিমকে প্রভাবিত করে—ব্যক্তিত্ব, ছোটবেলার অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন ঘটনা, বয়স, স্বাস্থ্য, অন্যদের সাথে তুলনা, প্রিয়জনদের আচরণ, পারিবারিক গঠন ইত্যাদি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেলফ-এস্টিম কখনও স্থায়ী নয়—এটি পরিবর্তনশীল ও উন্নতিশীল।

নিম্ন সেলফ-এস্টিমের ফলাফল

কেউ নিম্ন সেলফ-এস্টিম নিয়ে বেড়ে উঠলে তার জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে। যেকোনো কাজ বা সম্পর্কে তার মধ্যে প্রবলভাবে কাজ করে এমন চিন্তা: "আমাকে কেউ ভালোবাসে না", "আমাকে দিয়ে কিছু হবে না", "অন্যরা পারে, আমি পারি না", "আমি দুর্বল" ইত্যাদি। আমরা একটি পরিস্থিতি বা মানুষকে যেভাবে দেখি সেভাবেই আমাদের আবেগ তৈরি হয় এবং সেই চিন্তা-আবেগ দ্বারা চালিত হয়ে আচরণ করি। তাই নিজের সম্পর্কে সবসময় নেতিবাচক ধারণা রাখলে বিভিন্ন কাজে ও সম্পর্কে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দীর্ঘমেয়াদে হতাশা ও বিষণ্নতা তৈরি করতে পারে। তাই বিভিন্ন চর্চার মাধ্যমে এই ধারণাকে ইতিবাচক করা জরুরি। কী কী উপায়ে সেলফ-এস্টিম উন্নত করা যায় তা পরবর্তী পর্বে জানতে পারবেন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করে নিয়মিত সাইকোথেরাপি নিতে পারেন।